যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC) কোম্পানি নিবন্ধনের পুরো প্রক্রিয়া বদলে দিচ্ছে। ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের এক পরিপত্রে RJSC জানিয়েছে, নতুন eBRS (electronic Business Registration System)-এর মাধ্যমে ১২ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে নামের ছাড়পত্র ও নিবন্ধনের সব আবেদন করতে হবে। নতুন কোম্পানি খুলতে চাইলে বা আবেদন চলমান থাকলে, নিচের বিষয়গুলো এখনই জেনে রাখুন।
এক নজরে: যা বদলাচ্ছে
| বিষয় | নতুন নিয়ম |
|---|---|
| চালুর তারিখ | ১২ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:০০টা |
| পুরনো ই-সেবা বন্ধ | ৯ নভেম্বর বিকাল ৫টা থেকে ১২ নভেম্বর সকাল ১০টা |
| আবেদনের লিংক | ebrs.rjsc.gov.bd, roc.gov.bd-এর হোম পেজ, অথবা app.roc.gov.bd-এর ‘Apply for Name Clearance’ ও ‘Apply for Registration’ |
| পরিচয় যাচাই | NID, ই-টিআইএন ও মোবাইল নম্বর রিয়েল-টাইম যাচাই |
| রিটার্নের প্রমাণ | নিবাসী শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক ও সদস্যদের PSR আপলোড বাধ্যতামূলক |
| সম্মতি | ইমেইল/মোবাইলে OTP দিয়ে ই-কনসেন্ট |
| নামের ছাড়পত্র | শুরুতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে; পরে তাৎক্ষণিক |
| নিবন্ধন | মডেল MoA/AoA হলে সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন |
| সনদ | ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত সনদ ইমেইলে |
চলমান আবেদনের কী হবে?
- নামের ছাড়পত্র: ৯ নভেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া যেসব ছাড়পত্রের বিপরীতে এখনও নিবন্ধন আবেদন হয়নি, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে eBRS-এ যাবে। মেয়াদ ও শর্ত বহাল থাকবে, তবে বাকি কাজ নতুন সিস্টেমে করতে হবে।
- নিবন্ধন আবেদন: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত দাখিল করা নিষ্পন্ন-অনিষ্পন্ন সব আবেদন eBRS-এ যাবে। তথ্যে ঘাটতি থাকলে মন্তব্যসহ আপনার অ্যাকাউন্টে ফেরত আসবে।
- খসড়া আবেদন: খসড়া তৈরি ও ফি পরিশোধ হয়ে থাকলে তবেই স্থানান্তর হবে। ফি না দেওয়া খসড়া স্থানান্তর হবে না — নামের ছাড়পত্র ব্যবহার করে নতুন সিস্টেমে আবার আবেদন করতে হবে।
পরিচয় যাচাই: সবচেয়ে বেশি আটকাবেন এখানে
নতুন সিস্টেমে আবেদনের সময়ই প্রত্যেক বাংলাদেশি শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক, সদস্য বা অংশীদারের NID, ই-টিআইএন ও মোবাইল নম্বর রিয়েল-টাইম যাচাই হবে।
- মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই তাঁর নিজের NID-তে নিবন্ধিত হতে হবে। না মিললে তাঁকে পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত করাই যাবে না। (যাচাই করতে *16001# পদ্ধতি দেখুন।)
- নাম, ই-টিআইএন ও মোবাইলের তথ্য NID-এর সাথে হুবহু মিলতে হবে।
- আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ২৬৪ অনুযায়ী সকল নিবাসী শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক ও সদস্যের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR) স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
- বিদেশি নাগরিকদের বৈধ পাসপোর্ট নম্বর ও পাসপোর্টের পরিষ্কার স্ক্যান কপি দিতে হবে।
ই-কনসেন্ট: সবার OTP ছাড়া আবেদন এগোবে না
প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক, সদস্য ও অংশীদারের নিবন্ধিত ইমেইলে সম্মতির লিংক যাবে। তাঁরা মোবাইল বা ইমেইলে পাওয়া OTP দিয়ে সম্মতি দেবেন। একজনও বাকি থাকলে আবেদন পরবর্তী ধাপে যাবে না — বিদেশে থাকা পরিচালকদের আগেই জানিয়ে রাখুন।
নামের ছাড়পত্র ও নিবন্ধন: কত দ্রুত
- নামের ছাড়পত্র: শুরুতে সিস্টেমের প্রাথমিক যাচাইয়ের পর কর্মকর্তারা পুনরায় দেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন। পরে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাৎক্ষণিক ছাড়পত্র মিলবে। বাতিল হলে নাম রিভিউয়ের আবেদন করা যাবে।
- মডেল MoA ও AoA: RJSC-এর নির্ধারিত মডেল ব্যবহার করে সব তথ্য, ফি, যাচাই ও OTP সম্পন্ন করলে আবেদন সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে।
- কাস্টমাইজড MoA ও AoA: নিজের তৈরি MoA/AoA দিলে RJSC কর্মকর্তা আইন অনুযায়ী যাচাই করে অনুমোদন বা বাতিল করবেন।
- Query: তথ্যে অসংগতি থাকলে মন্তব্যসহ আবেদন ফেরত আসবে; নির্ধারিত সময়ে সংশোধন করে আবার জমা দিতে হবে। ভুল বা অসত্য তথ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা হতে পারে।
অনুমোদনের পর ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত নিবন্ধন সনদ ও সংশ্লিষ্ট ফরম সবার ইমেইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে।
আবেদনের আগে চেকলিস্ট
- সব পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারের NID, ই-টিআইএন ও নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর মিলিয়ে নিন।
- নিবাসীদের সর্বশেষ PSR-এর স্ক্যান কপি প্রস্তুত রাখুন।
- বিদেশি পরিচালকদের পাসপোর্টের পরিষ্কার স্ক্যান নিন।
- সবার সক্রিয় ইমেইল ঠিকানা সংগ্রহ করুন — OTP ও সনদ সেখানেই যাবে।
- মডেল নাকি কাস্টমাইজড MoA/AoA, আগেই ঠিক করুন।
- eBRS পোর্টালের ইউজার ম্যানুয়াল একবার পড়ে নিন।
একটি উদাহরণ: যেখানে সময় নষ্ট হয়
(বোঝার সুবিধার জন্য একটি কাল্পনিক উদাহরণ) ধরা যাক, রাফি তিন বন্ধুকে নিয়ে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি খুলছেন; একজন অংশীদার থাকেন দুবাইয়ে। নামের ছাড়পত্র হাতে, খসড়াও তৈরি — কিন্তু ফি দেওয়া হয়নি। নতুন নিয়মে সেই খসড়া eBRS-এ যাবে না। এদিকে একজন বন্ধুর মোবাইল নম্বর তাঁর বাবার NID-তে নিবন্ধিত, তাই তাঁকে পরিচালক হিসেবে যোগই করা যাচ্ছে না; দুবাইয়ের অংশীদারের OTP-ও সময়মতো আসছে না।
রাফির সামনে দুটি পথ: নিজে প্রতিটি সমস্যা খুঁজে সমাধান করা, অথবা এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যিনি প্রতিদিন RJSC-এর কাজ করেন। তিনি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে শেষ পর্যন্ত VATax Advisory & Co.-কে বেছে নেন — কারণ তারা শুরুতেই সবার NID-মোবাইল-PSR মিলিয়ে দেখার একটি তালিকা দেয়, বিদেশি অংশীদারের পাসপোর্ট ও OTP সমন্বয় করে, আর নিবন্ধনের পর টিআইএন, BIN, ট্রেড লাইসেন্স ও RJSC বার্ষিক রিটার্নও এক জায়গা থেকে সামলায়।
নিজে করতে পারলে উপরের চেকলিস্টই যথেষ্ট। আর সময় বাঁচাতে চাইলে অভিজ্ঞ কারও সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সমস্যা হলে কোথায় জানাবেন
কারিগরি সমস্যা, আবেদন সংক্রান্ত জটিলতা বা OTP দেরিতে এলে RJSC-এর ‘RJSC eBRS Support Group’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হয়ে জানাতে বলা হয়েছে। লিংক ও QR কোড পরিপত্রে এবং roc.gov.bd-এ পাবেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
নতুন eBRS সিস্টেম কবে চালু হচ্ছে?
১২ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে। এরপর নামের ছাড়পত্র ও কোম্পানি নিবন্ধনের সব আবেদন eBRS-এ করতে হবে।
পুরনো RJSC ই-সেবা কতদিন বন্ধ থাকবে?
৯ নভেম্বর ২০২৬ বিকাল ৫টা থেকে ১২ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা পর্যন্ত।
আগে নেওয়া নামের ছাড়পত্র কি বাতিল হবে?
না। ৯ নভেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া যেসব নামের ছাড়পত্রের বিপরীতে নিবন্ধন আবেদন হয়নি, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে eBRS-এ চলে যাবে এবং মেয়াদ বহাল থাকবে।
পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার হতে কী কী লাগবে?
বাংলাদেশি নাগরিকের NID, ই-টিআইএন ও নিজের NID-তে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর; নিবাসীদের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR)। বিদেশিদের বৈধ পাসপোর্ট নম্বর ও স্ক্যান কপি।
কোম্পানি কি সাথে সাথে নিবন্ধিত হতে পারে?
হ্যাঁ, RJSC-এর মডেল MoA ও AoA ব্যবহার করে সব তথ্য, ফি, পরিচয় যাচাই ও OTP সম্মতি সম্পন্ন হলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাথে সাথে অনুমোদিত হবে।
সূত্র: যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর, প্রশাসন-২ শাখা, পরিপত্র, তারিখ ০৫.১১.২০২৬। পরিপত্রে অস্পষ্টতা থাকলে RJSC-এর পরবর্তী নির্দেশনাই প্রযোজ্য হবে।